অ্যান্টার্কটিকায় জরুরি অবস্থা: ‘ডুমসডে গ্লেসিয়ার’ ৫ বছরের মধ্যে ভেঙে পড়তে পারে, বিজ্ঞানীদের সতর্কবার্তা

🌍 ইউএস টাইম: লোড হচ্ছে...
🕒 সর্বশেষ আপডেট: লোড হচ্ছে (EDT)

অ্যান্টার্কটিকা/নিউ ইয়র্ক — ২৮ এপ্রিল, ২০২৬ : বিশ্ব জলবায়ু বিজ্ঞানীরা আজ ইতিহাসের সবচেয়ে স্পষ্ট ও উদ্বেগজনক সতর্কতা জারি করেছেন। অ্যান্টার্কটিকার পশ্চিম অংশের থোয়েটস গ্লেসিয়ার, যা ‘ডুমসডে গ্লেসিয়ার’ নামে পরিচিত, তার গুরুত্বপূর্ণ বরফের স্তম্ভগুলো দ্রুত দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। নতুন স্যাটেলাইট ডেটা এবং সমুদ্রগর্ভস্থ ড্রোন জরিপে দেখা গেছে, হিমবাহের পায়ের নিচে উষ্ণ লবণাক্ত পানির স্রোত বরফকে ত্বরিত গতিতে গলিয়ে দিচ্ছে। বিজ্ঞানীরা পূর্বাভাস দিয়েছেন, আগামী ৫ বছরের মধ্যে এই বরফের তাক ভেঙে গেলে বিশ্বব্যাপী সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা প্রায় ৬০ সেন্টিমিটার (২ ফুট) পর্যন্ত বাড়তে পারে, যা উপকূলীয় শহরগুলোর জন্য বিপর্যয় ডেকে আনবে।

🌊 ‘ডুমসডে গ্লেসিয়ার’ কেন এত ভয়ঙ্কর?

থোয়েটস গ্লেসিয়ারের আয়তন প্রায় ফ্লোরিডা রাজ্যের সমান। এটি অ্যান্টার্কটিকার পশ্চিম বরফস্তরের মূল চাবিকাঠি হিসেবে কাজ করে। যদি এই হিমবাহ সম্পূর্ণরূপে ভেঙে যায়, তাহলে এটি পুরো পশ্চিম অ্যান্টার্কটিক বরফস্তরের অস্থিতিশীলতার সূচনা করবে — যা সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ৩ মিটার (১০ ফুট) পর্যন্ত বাড়িয়ে দিতে পারে। বর্তমানে থোয়েটস গ্লেসিয়ার বার্ষিক প্রায় ৫০ বিলিয়ন টন বরফ হারাচ্ছে, যা বিশ্বের সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ৪% এর জন্য দায়ী। নতুন তথ্য অনুযায়ী, হিমবাহের নিচে উষ্ণ স্রোতের কারণে গলনের হার আরও বেড়ে গত দুই বছরে দ্বিগুণ হয়েছে।

🔴 ড. টেড স্ক্যাম্বোস (গ্লাসিওলজিস্ট, ইউনিভার্সিটি অফ কলোরাডো): “থওয়েটসের আইস শেল্ফ একটি ‘বন্দুকের ট্রিগারের’ মতো। এটি ভাঙা মানে পার্শ্ববর্তী বরফের বিশাল অঞ্চলের পতনের সূচনা। আমাদের কাছে এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার খুব কম সময় বাকি।”

🧊 বৈজ্ঞানিক প্রমাণ: কী ঘটছে বরফের নিচে?

আইসব্রেকার ‘নাথানিয়েল বি. পামার’-এর অভিযান এবং সাবমার্সিবল ড্রোন ‘র্যান’-এর পাঠানো তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, থোয়েটসের নিচে একটি বিশাল গহ্বর তৈরি হয়েছে, যা প্রায় ম্যানহাটানের দুই-তৃতীয়াংশ এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। উষ্ণ সমুদ্রস্রোত এই গহ্বরে প্রবেশ করে বরফের তলাকে দুর্বল করছে। হিমবাহের পায়ের অংশে ফাটল ধরেছে এবং প্রতি মাসেই নতুন ক্রিভাস তৈরি হচ্ছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া এখন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে ‘অপরিবর্তনীয় বিন্দু’ (টিপিং পয়েন্ট) অতিক্রমের সম্ভাবনা ৮০% এর বেশি। অর্থাৎ যদি আজ থেকেই কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামিয়ে আনা হয়, তবুও গলন পুরোপুরি থামানো যাবে না, শুধুমাত্র ধীর করা সম্ভব।

🏙️ বিশ্বের কোন শহরগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে?

যদি সমুদ্রপৃষ্ঠ সর্বনিম্ন ৬০ সেন্টিমিটার বাড়ে, তাহলে মিয়ামি, শ্যাংহাই, ব্যাংকক, ভেনিস, নিউইয়র্কের লোয়ার ম্যানহাটন এবং বাংলাদেশের উপকূলীয় জেলাগুলোর বিশাল এলাকা স্থায়ীভাবে প্লাবিত হবে। নেদারল্যান্ডসের বাঁধ ব্যবস্থা ব্যাপক চাপের মুখে পড়বে, এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্রসমূহ (তুভালু, মালদ্বীপ) টিকে থাকার লড়াইয়ে তীব্র প্রতিকূলতার সম্মুখীন হবে। ইউএন-এর সতর্কতা অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বের ২০ কোটির বেশি মানুষ সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১ মিটারের নিচে বসবাস করেন। থোয়েটসের পতন কেবল সমুদ্রপৃষ্ঠই বাড়াবে না, বরং ঝড়ের ঢেউ ও উপকূলীয় ক্ষয়ও বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।

🌱 আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও জরুরি করণীয়

এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস জরুরি জলবায়ু বৈঠক ডেকেছেন। আইপিসিসি-র আগামী প্রতিবেদনে থোয়েটসের তথ্য যুক্ত করা হবে। বিজ্ঞানীরা অভিযান চালিয়ে বরফের তলায় বাধা তৈরি করার মতো জিওইঞ্জিনিয়ারিং প্রকল্পের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করছেন — যেমন সমুদ্রের তলদেশে কৃত্রিম বাধা স্থাপন করে উষ্ণ পানি দূরে রাখা। তবে বিশেষজ্ঞরা একমত যে সবচেয়ে জরুরি পদক্ষেপ হলো বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণ দ্রুত হ্রাস করা। বর্তমান নীতিতে ২০৫০ সালের মধ্যে যে উষ্ণায়ন হচ্ছে, তাতে থোয়েটস সহ অ্যান্টার্কটিকার আরও কয়েকটি হিমবাহ অনিবার্যভাবে ভেঙে পড়বে।

গবেষণা নেতা ডঃ এরিন পেটিট বলেছেন, “এই শতাব্দীর শেষ নাগাদ সমুদ্রপৃষ্ঠ ২ মিটার বাড়তে পারে — যা পূর্বের ধারণার চেয়ে দ্বিগুণ। থোয়েটস গ্লেসিয়ার সেই ভবিষ্যতের দরজা খুলে দিচ্ছে। এখনই বৈশ্বিক নীতি নির্ধারকদের পদক্ষেপ নিতে হবে, অন্যথায় আগামী প্রজন্ম অপরিবর্তনীয় বিপর্যয়ের মুখোমুখি হবে।” সাধারণ নাগরিক হিসেবেও আমাদের শক্তি ব্যবহার, জীবাশ্ম জ্বালানি নির্ভরতা কমিয়ে আনা এবং জলবায়ু সচেতনতা বাড়ানো আরও জরুরি হয়ে উঠেছে। এই মুহূর্ত মানব সভ্যতার জন্য একটি ওয়েক-আপ কল।

📘 থোয়েটস গ্লেসিয়ার রিসার্চ রিপোর্ট ও জলবায়ু অ্যাকশন প্ল্যান (ডেমো লিংক) →