বিশ্ব অর্থনীতিতে বিপ্লব: ব্রিকস দেশগুলো ‘গোল্ড-ব্যাকড ডিজিটাল কারেন্সি’ চালুর ঘোষণা দিয়েছে | ট্রেন্ডিং গ্লোবাল নিউজ
ব্রিকস দেশগুলো উন্মোচন করল স্বর্ণ-সমর্থিত ডিজিটাল মুদ্রা ‘BRICS Pay’, বিশ্ববাণিজ্যে ডলারের আধিপত্যে টানাপড়েন
জোহানেসবার্গ/মস্কো — ২৮ এপ্রিল, ২০২৬ : বিশ্ব অর্থনীতিতে যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে ব্রিকস জোট। আজ দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে নয়টি সদস্য দেশ ও অন্তর্ভুক্ত নতুন দেশগুলো যৌথভাবে ‘BRICS Pay’ নামে একটি স্বর্ণ-সমর্থিত ডিজিটাল মুদ্রা চালুর ঘোষণা দিয়েছে। এই কাঠামোটি মার্কিন ডলার-নির্ভর বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ‘ডি-ডলারাইজেশন’ প্রক্রিয়াকে বেগবান করবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
🏦 কীভাবে কাজ করবে ‘BRICS Pay’?
নতুন এই ডিজিটাল মুদ্রা শুরুতে আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্যিক লেনদেন এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলির নিষ্পত্তির জন্য ব্যবহার হবে। প্রতিটি ইউনিট ৪০% স্বর্ণ এবং ৬০% ব্রিকসভুক্ত দেশগুলোর জাতীয় মুদ্রার ঝুড়ির (চাইনিজ রেনমিনবি, ভারতীয় রুপি, রুশ রুবল, ব্রাজিলিয়ান রিয়াল, দক্ষিণ আফ্রিকান র্যান্ড এবং নতুন সদস্যদের মুদ্রা) বিরুদ্ধে মূল্যায়িত হবে। উদ্বোধনের সময় ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, BRICS পে-এর প্রাথমিক স্বর্ণ রিজার্ভ হবে প্রায় ২,৫০০ টন, যা বাজারস্থিত অনেক দেশের মজুতের চেয়েও বড়। এই মুদ্রার লেনদেন হবে ব্লকচেইন প্রযুক্তিতে, যা স্বচ্ছ ও দ্রুত স্থানান্তর নিশ্চিত করে।
📈 বিশ্ব ডলার ব্যবস্থার জন্য হুমকি কতটা?
মুহূর্তেই এই ঘোষণায় বিশ্ব বাজার আলোড়িত হয়েছে। স্বর্ণের দাম ২.৩% বেড়ে আউন্সপ্রতি ২,৪৮০ ডলারে পৌঁছেছে। যদিও পশ্চিমা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডলার অবিলম্বে তার প্রভাব হারাবে না, তবে ব্রিকস জোটের এই উদ্যোগ মধ্য বা দীর্ঘমেয়াদে ডলারের আধিপত্য কমিয়ে দিতে সক্ষম। নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (NDB) সূত্র জানিয়েছে, ইতিমধ্যে ২৫টি দেশ ব্রিকস পে-তে যোগদানে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। সৌদি আরব, ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং মিসর নতুন সদস্য হিসেবে এই ব্যবস্থার আওতায় আসার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। বিশেষ করে তেল ও অপরিশোধিত জ্বালানি বাণিজ্যে ডলার-বহির্ভূত লেনদেনের সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্য।
🌏 ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব ও নতুন অর্থনৈতিক জোট
ব্রিকসের এই পদক্ষেপ মার্কিন নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি পাল্টা বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং চীন-মার্কিন বাণিজ্য যুদ্ধের পর পৃথিবীর অনেক দেশই ডলার-নির্ভরতা কমানোর বিকল্প খুঁজছিল। ব্রিকস পে শুধু ডিজিটাল কারেন্সিই নয়, বরং SWIFT-এর বিকল্প একটি পেমেন্ট মেসেজিং সিস্টেমও তৈরি করবে, যার নাম ‘BRICS Bridge’। এই সিস্টেম ব্যবহার করে সদস্য দেশগুলো নিজেদের মধ্যে লেনদেনের সময় মার্কিন ডলার ব্যবহার ছাড়াই সরাসরি স্থানীয় মুদ্রায় বা BRICS Pay-তে বাণিজ্য করতে পারবে। বিশ্লেষকদের মতে, প্রথম ধাপে এই ব্যবস্থা ২০২৭ সালের মধ্যেই পুরোদমে চালু হতে পারে।
⚖️ চ্যালেঞ্জ ও সমালোচনা
তবে এই উদ্যোগ নিয়ে সংশয়ও কম নয়। স্বর্ণ-সমর্থিত মুদ্রার জন্য প্রতিটি দেশকে পর্যাপ্ত স্বর্ণ সংরক্ষণ করতে হবে, যা সব BRICS দেশের জন্য সহজ নয়। পাশাপাশি সদস্যদের মধ্যে অর্থনৈতিক নীতি ও বাণিজ্য ভারসাম্যের তারতম্য বড় চ্যালেঞ্জ। আন্তর্জাতিক অর্থ ফান্ড (IMF) বলেছে, বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য একটি বিচ্ছিন্ন পেমেন্ট ব্যবস্থা খণ্ডিতকরণ বাড়াতে পারে। তবে BRICS নেতারা আশাবাদী, আগামী তিন বছরের মধ্যে এই ডিজিটাল মুদ্রার মাধ্যমে জোটভুক্ত দেশগুলোর ৩০% পারস্পরিক বাণিজ্য সম্পন্ন হবে।
এটি বিশ্ব অর্থনীতির সম্ভবত সবচেয়ে বড় রি-অ্যালাইনমেন্টের সূচনা। বিশেষজ্ঞরা একে ব্রেটন উডস ব্যবস্থার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক পরিবর্তন হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন। বাংলাদেশ, পাকিস্তান, নেপালসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য BRICS Pay সুদ ও বিনিময় হার ঝুঁকি কমাতে পারে। আশা করা যাচ্ছে, আগামী মাসগুলোতে এই মুদ্রার বিস্তারিত প্রযুক্তিগত কাঠামো ও বাস্তবায়ন রূপরেখা প্রকাশ করা হবে।
📊 সম্পূর্ণ অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ ও সাদা কাগজ (ডেমো লিংক) →🔔 CTA: BRICS Pay চূড়ান্ত লঞ্চ ও ১৫ দিনের মধ্যে আপডেটেড রিজার্ভ ডিটেইলস নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন আসছে। নিউজলেটার সাবস্ক্রাইব করুন বা আবার ভিজিট করুন।
#BRICS #GoldBackedCurrency #GlobalEconomy #DeDollarization #TrendingNews
